ব্যাপক হামলার মুখে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরাইল

প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২১

ব্যাপক হামলার মুখে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরাইল

অনলাইন ডেস্ক :: ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড থেকে হামাসের ব্যাপক হামলার মুখে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকের পর ইসরাইলি সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গাজায় বিবিসির প্রতিনিধি রুশদি আবুয়ালউফ এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান মিসরকে জানিয়েছে ইসরাইল। এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে মিসর।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে আজ শুক্রবার সকাল নাগাদ যুদ্ধবিরতি চুক্তি হতে পারে। সূত্রের বরাতে গতকাল বৃহস্পতিবার এমন খবর দিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

এর আগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র উপদেষ্টা মার্ক রিগেভ জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট শর্তেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি হতে পারে। সে শর্তে তেল আবিব ও জেরুজালেমে হামলা বন্ধ করতে হবে হামাসের। গাজা থেকে রকেট হামলার কারণে সেখানকার বেসামরিক নাগরিকরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

এদিকে, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডে মানবিক সঙ্কট চরম আকার ধারণ করায় বিশ্বের পরাশক্তিগুলো উভয়পক্ষকে যুদ্ধে বিরতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে, গাজার ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরাইলের লড়াই এখনও অব্যাহত আছে।

খবরে বলা হয়, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন মিসরীয় কর্মকর্তারা। আর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গোপনীয়ভাবে স্বীকার করেছে, তারা তাদের উদ্দেশ্য পূরণের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধবিরতির কলাকৌশল প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন এটি কেবল সময়ের ব্যাপার। এর আগে বাইডেন প্রশাসন আভাস দিয়েছিল যে চলতি সপ্তাহে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হতে পারে। সামরিক অভিযান বন্ধে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও হামাস নেতাদের চাপ দিতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রসহ মিসর, কাতার ও বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ। তবে, ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ আন্দোলনকে অনিশ্চিত অবস্থায় রেখে দেওয়া হচ্ছে। যদিও তারা উত্তেজনা উসকে দিতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। গত বুধবার এক ফোনালাপে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমিয়ে অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হতে নেতানিয়াহুকে বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত ১০ মে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দু’নেতার মধ্যে এটি চতুর্থ ফোনালাপ বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

গাজায় চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৪ শিশু এবং ৩৮ নারী আছেন। অপরদিকে হামাসের হামলায় ১৩ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন।

এদিকে, ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের প্রধান অ্যান্তনিও গুতেরেস। আন্তর্জাতিক সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেনের মতে, গাজার ৫০টি স্কুল ধ্বংস করেছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে প্রায় ৪২ হাজার শিক্ষার্থীর স্কুলজীবন হুমকির মুখে পড়েছে।

ত্রিমুখী হামলার মুখে ইসরাইল
ত্রিমুখী হামলার মুখে পড়েছে ইহুদীবাদী দেশ ইসরাইল। ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘাতের কারণে গাজা থেকে অব্যাহত রকেট হামলা চালাচ্ছে হামাস। গাজার সংঘাতের মধ্যেই লেবানন থেকে তিনবার রকেট হামলা হয়েছে ইসরাইলে। যদিও সেসব হামলায় তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেছে ইহুদিবাদী দেশটি।

বিবিসি জানিয়েছে, ইরান থেকেও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তবে সেটি ধ্বংস করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
গত ২৪ ঘণ্টায় গাজা থেকে ইসরাইলের ৫টি অঞ্চলে রকেট হামলা চালানো হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, চব্বিশ ঘণ্টায় অন্ততঃ ৮০টি রকেট হামলা চালিয়েছে হামাস। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ রকেট আয়রন ডোম দিয়ে ধ্বংস করার দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলছে, চলতি সপ্তাহে ইরান থেকে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন পাঠানো হয়েছিল।

গতকাল বৃহস্পতিবার জার্মানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস ইসরাইল সফরে যান। গাজায় চলমান সংঘাতে তিনি ইসরাইলকে সমর্থন করেন। এ সময় সাংবাদিক সম্মেলনে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, আমাদের বৈঠকের সময়েও বিভিন্নমুখী যুদ্ধ মোকাবেলা করতে হয়েছে, এই আগ্রাসনের বেশিরভাগ সমর্থন রয়েছে ইরানের।

এ সময় জার্মানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাসকে নেতানিয়াহু বলেন, দুই দিন আগে জর্ডান সীমান্তের কাছে ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইসরাইল। আমরা যখন এখানে সংঘাতের মধ্যে রয়েছি, কয়েক দিন আগে ইরান সেখানে সামরিক ড্রোন পাঠিয়েছে। ইসরাইলের সঙ্গে জর্ডান সীমান্তে ইরাক অথবা সিরিয়া থেকে আমাদের বাহিনী বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

ইসরায়েলি হামলা বন্ধের আহ্বান ২৮ মার্কিন সিনেটরের
ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলা হামলা বন্ধ করতে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ জন সিনেটর। ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসোফের নেতৃত্বে সিনেটররা এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।

নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে যৌথ বিবৃতি তুলে ধরেন সিনেটর জন অসোফ।

যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘাত যাতে আর না বাড়ে এবং বেসামরিক মানুষের আর প্রাণহানি না ঘটে, এজন্য অতিসত্বর আমরা যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছি।’

জর্জিয়ার সিনেটর জন অসোফের নেতৃত্বে এই সিনেটরদের মধ্যে আছেন ডেমোক্রেটের প্রবীণ রাজনীতিবিদ বার্নি স্যান্ডার্সও। শুরু থেকেই তিনি ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলায় ইসরায়েলের নেতানিয়াহু সরকারকে সমর্থন বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন। বিবৃতিদাতাদের মধ্যে ভারমন্টের বার্নি ও মেইনের অ্যাঙ্গাস কিং হচ্ছেন স্বতন্ত্র সিনেটর। বাকি সবাই ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেটর।

এদিকে, দুই পক্ষের সংঘাত বন্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে। তবে আগেই নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, গাজায় হামলা অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলার দশমতম দিনে এখন পর্যন্ত অন্তত ২১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন নারী ও শিশু। হামলায় আহত হয়েছেন প্রায় দেড় হাজার ফিলিস্তিনি। পূর্ব জেরুজালেমে আল আকসা মসজিদে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে গাজায় টানা ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাসসহ বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী রকেট ছুঁড়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে।

শেয়ার করুন………