আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ

প্রকাশিত: ১১:০২ পূর্বাহ্ণ, মে ১২, ২০২১

আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ

স্টাফ রিপোর্টার :: দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর রোজাদারের জন্য পবিত্র ঈদুল ফিতর এক মহা আনন্দের দিন। ‘ও মন রমযানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ, তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন্ আসমানী তাগিদ’-এই সুর লহরী এখন ভেসে বেড়াচ্ছে আকাশে-বাতাসে। মনপ্রাণ ভরে উঠছে ঈদের আনন্দ রোশনাইয়ে। রমজানের রোজার শেষে খুশির সওগাত নিয়ে আসছে ঈদ উল ফিতর।

আজ বুধবার পবিত্র রমজান মাসের ২৯ তারিখ। আজ শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এক মাস সিয়াম সাধনার পর উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে আজ বিকেল থেকেই শাওয়ালের চাঁদ দেখার জন্য অগণিত মুসলিম আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকবেন। আর চাঁদ দেখা না গেলে ঈদ হবে শুক্রবার।

আজ বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররমের পূর্ব সাহানে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় ঈদের দিন চূড়ান্ত হবে। করোনা মহামারি সংক্রমণ ঠেকাতে এবারও ভিন্ন আবহে পবিত্র ঈদ উদযাপিত হবে।

এদিকে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন করবে মুসলমানরা। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার ঈদগাহর পরিবর্তে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের জামাত। প্রয়োজনে মসজিদে মসজিদে একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামদের অনুরোধ করা হয়েছে। ঈদের দিন আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে সবাই শামিল হবেন মসজিদগুলোতে। কারণ, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে এবারও ঈদগাহ মাঠ বা উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। ফলে রাজধানীসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে ঈদের নামাজ পড়তে হবে। নামাজ শেষে কারও সঙ্গে কোলাকুলি বা হাত মেলানো যাবে না। অনেকের মতে, ঈদের আনন্দ বলতে আমরা যা বুঝি তার কিছুই এবার করা যাবে না করোনা পরিস্থিতির কারণে।

যারা এক মাস রোজা রেখে অভুক্ত থাকার কষ্টকে অনুভব করেছেন, নামাজ, তারাবিহ, ইবাদত-বন্দেগি ও ইসলামের অনুশাসন পালন করেছেন, তাদের জন্য এ ঈদ আনন্দ বেশি উপভোগের, উচ্ছ্বাসের ও শান্তির। তাদের জন্য মহান রব্বুল আলামীনের এক মহাপুরস্কার হচ্ছে ঈদ।

পবিত্র কোরআনের বর্ণনা মতে, এক মাস রোজা রাখার পর মুসলমানরা যখন নতুন পায়জামা-পাঞ্জাবি তথা পছন্দের পোশাক পরে, দেহে আতর-খুশবু মেখে ঈদগাহে যান, তখন ফেরেশতারা তাদের সংবর্ধনা জানান। স্বর্গীয় সব বাণীতে তাদের অভিনন্দিত করা হয়। ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য এক সার্বজনীন ধর্মীয় উৎসব তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, শাসক-শাসিত ও আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সবার জন্য ঈদের আনন্দ যেন সমান ও ব্যাপক হয়, ইসলামে সেই ব্যবস্থা রয়েছে।

পবিত্র রমজানে বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এবং দান-খয়রাত করলে, যাকাত ও ফিতরা প্রদান করলে দরিদ্ররা ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারবে বেশি। তাদের মুখেও হাসি ফুটবে এবং ঈদের ভোর আসবে তাদের জন্য আনন্দবার্তা নিয়ে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ঈদের খুৎবায় দান-খয়রাতকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করতেন। তাই ঈদের নামাজের আগেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা তাদের নিজ নিজ যাকাত ও সদকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করে থাকেন।

এদিকে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা পৃথক বাণীতে দেশবাসীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাণীতে তারা বিশ্ব মুসলিমের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।

 

শেয়ার করুন………