অনেকের ফ্রিজের মাছ-মাংস বিনষ্ট ৫৬ ঘণ্টা পর প্রায় স্বাভাবিক সিলেটের বিদ্যুৎ সরবরাহ

প্রকাশিত: ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২০

অনেকের ফ্রিজের মাছ-মাংস বিনষ্ট ৫৬ ঘণ্টা পর প্রায় স্বাভাবিক সিলেটের বিদ্যুৎ সরবরাহ

স্টাফ রিপোর্টার:: ৫৬ ঘণ্টা পর প্রায় স্বাভাবিক হলো সিলেটের বিদ্যুৎ সরবরাহ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় সিলেট বিদ্যুৎ বিভাগের ডিভিশন-২ ও ৩ এর বিদ্যুৎ চালুর মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক হলো এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক (জনসংযোগ) সাইফুল হাসান চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সিলেটের অলমোস্ট (প্রায় বেশিরভাগ) এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। ২/১টা পকেট বাকি থাকলেও সেগুলোতেও সরবরাহ করা হবে।
বিউবো সিলেট-এর একটি সূত্র জানায়, সিলেটে বিউবো’র ৫টি ডিভিশনের মধ্যে ৩টি ডিভিশনে যথাক্রমে ১,৩ ও ৫-এ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। কিন্তু, ৩ নম্বর ডিভিশন ও ৪ নম্বর ডিভিশনে বুধবার বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে এ দুটি ডিভিশনের লক্ষাধিক গ্রাহক ছিলেন বিদ্যুৎহীন।
বিউবো’র ওই সূত্র জানায়, ৩ নম্বর ডিভিশনের আওতাধীন দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি থেকে মোগলাবাজার এবং সিলেট নগরীর পশ্চিম জিন্দাবাজার, মির্জাজাঙ্গাল, শেখঘাট, লামাবাজার, তালতলা, বাগবাড়ি, সুবিদবাজার থেকে সদর উপজেলার লামাকাজি পর্যন্ত এলাকা গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিদ্যুতের আলো জ্বলেনি। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রায় ৪শ’ কর্মীর প্রাণান্তকর প্রচেষ্টায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে এসব এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ অনেকটা রুদ্ধশ্বাস অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেয়েছেন।
সিলেটের কুমারগাঁওয়ের ১৩২/৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন লাগার পর গত মঙ্গলবার সকাল ১১টা ১০ মিনিট থেকে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন ছিল। সাড়ে ৩১ ঘণ্টা পর বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সিলেট নগরীর আংশিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
এর আগে বিউবো সিলেট-এর প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত সিলেটের শতকরা ৭০ ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। বাকি ৩০ ভাগ এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, বিদ্যুৎহীন এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবারও পানির জন্য হাহাকার ছিল। যে যেভাবে পারছেন, পানি সংগ্রহ করেছেন।
বিউবো সূত্র জানিয়েছে, বুধবার বিকল্প পন্থায় সিলেট নগরীর ৭০ ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। গাজীপুরের টঙ্গী থেকে আসা ট্রান্সফরমারের সেট আপের পর পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর পশ্চিম জিন্দাবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকান এবং বিপণি বিতানে জেনারেটর চলছে। ছোট ছোট দোকানে জ্বলছে ব্যাকআপ লাইট। ওই এলাকায় কম্পিউটার, ফটোস্ট্যাটের দোকান চালু থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে এগুলো সচল করা যাচ্ছে না। কিছু কিছু দোকানের সাটার লাগানো রয়েছে। এই বুঝি বিদ্যুৎ আসবে-এই অপেক্ষায় রয়েছেন কেউ কেউ।
নগরীর পশ্চিম জিন্দাবাজারের বাসিন্দা সাজ্জাদুর রহমান দুদু জানান, পূর্ব জিন্দাবাজার এলাকায় বিদ্যুৎ এলেও পশ্চিম জিন্দাবাজার এলাকায় গত দু’দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। এ কারণে তাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। বিশেষ করে পানির সংকট মানুষকে বেশি ভুগিয়েছে। অনেকের মোবাইলেও চার্জ ছিল না। এ কারণে মোবাইলে যোগাযোগও ব্যাহত হয়।
দক্ষিণ সুরমার বাসিন্দা সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম ইমরান জানান, বিদ্যুৎ ভোগান্তিতে পড়া দক্ষিণ সুরমার লোকজন বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হওয়ায় তারা এ কর্মসূচি থেকে সরে আসেন। তবে, বিদ্যুতের কারণে মানুষের দুর্ভোগের সীমা ছিল না।
কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রের জনৈক প্রকৌশলী জানান, ডিভিশন-৪ এর বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু না হওয়ায় তাদের কোয়ার্টারও ছিল বিদ্যুৎহীন। এ কারণে কোয়ার্টারের অনেকের ফ্রিজের মাছ-মাংস নষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন