বিভাগে শতকরা ৮৪ দশমিক ৭৫ ভাগ # সিলেট জেলায় শতকরা ৭৯ দশমিক ৬৯ ভাগ সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্ত ও সুস্থতার হার প্রায় সমান

প্রকাশিত: ৪:৫৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২০

বিভাগে শতকরা ৮৪ দশমিক ৭৫ ভাগ # সিলেট জেলায় শতকরা ৭৯ দশমিক ৬৯ ভাগ সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্ত ও সুস্থতার হার প্রায় সমান

দুই মাসে সিলেট বিভাগে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ও সুস্থতার সংখ্যা প্রায় সমপর্যায়ে চলে এসেছে। গত আগস্ট থেকে সিলেটে করোনাভাইরাস আক্রান্ত থেকে সুস্থতার সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিদিনই শনাক্তের সংখ্যা কমায় এবং সুস্থতার সংখ্যা বাড়ায় আক্রান্তের সংখ্যার সমপর্যায়ে সুস্থতার সংখ্যা চলে আসছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত চার জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১২,৬৮৫ জন, এর মধ্যে মারা গেছেন ২১৮জন এবং সুস্থতার সংখ্যা ১০,৫৬৭জন। মৃত্যুর সংখ্যা বাদ দিয়ে বর্তমানে সুস্থতার হার শতকরা ৮৪ দশমিক ৭৫ ভাগ।
গত ১৯ আগস্ট সুস্থতার হার ছিলো শতকরা ৫০ দশমিক ৩৫ ভাগ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর ছিলো ৭৯ দশমিক ২১ ভাগ।
গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত সিলেট জেলায় আক্রান্ত ৬,৮৮৪ জন এবং সুস্থ ৫,৪৮৬ জন, সুস্থতার হার শতকরা ৭৯ দশমিক ৬৯ ভাগ। সুনামগঞ্জে আক্রান্ত ২,৩৪৫, সুস্থ ১,২৬৭ জন, সুস্থতার হার শতকরা ৯২ দশমিক ৪০ ভাগ। হবিগঞ্জে আক্রান্ত ১,৭৫৩, সুস্থ ১,৩২৬ সুস্থতার হার শতকরা ৭৫ দশমিক ৬৪ ভাগ ও মৌলভীবাজার জেলায় আক্রান্ত ১,৭০৩ জন, সুস্থ হয়েছেন ১,৫৮৮ জন রোগী। এ জেলায় সুস্থতার হার শতকরা ৯৩ দশমিক ২৪ ভাগ। সিলেট বিভাগে গত ৪ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই ব্যক্তি মৌলভীবাজারের রাজনগরের ব্যবসায়ী ছিলেন। যদিও মারা যাওয়ার পরদিন ৫ এপ্রিল তার করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছিল। ওই দিনই মোট দুজন করোনায় আক্রান্ত শনাক্তের মধ্য দিয়ে বিভাগে প্রথম করোনার সংক্রমণের কথা জানা যায়।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য থেকে জানা গেছে, ৫ এপ্রিল সিলেট জেলায় প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন। তিনি ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দীন। পরে ১৫ এপ্রিল তিনি মারা যান। এরপর থেকে ক্রমেই বড় হতে থাকে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। সিলেটের চার জেলায় শুরুর দিকে সংক্রমণ ধীর থাকলেও মে মাসের মাঝামাঝি থেকে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। জুন মাসে তা তীব্র আকার নেয়। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যায় অন্য তিন জেলাকে ছাড়িয়ে যায় সিলেট জেলা।
জুলাইয়ের শুরু থেকে পরীক্ষা কমিয়ে আনার ফলে নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা কমতে থাকে। অবশ্য গত আগস্ট থেকে সিলেট বিভাগে নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যার পাশাপাশি সুস্থতার সংখ্যা বাড়তে থাকে। এসময়ে পরীক্ষার তুলনায় সংক্রমণ শনাক্তের হারও কমতে দেখা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট চার জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত ছিলেন ৯৬১১ জন এবং সুস্থতার সংখ্যা ছিলো ৪৮৪০ জন। সুস্থতার হার ছিলো শতকরা ৫০ দশমিক ৩৫ ভাগ। এসময় সিলেট জেলায় আক্রান্ত ছিলেন ৫১২৪ জন, সুস্থ হন ১৭৩০ জন, সুস্থতার হার ছিলো শতকরা ৩৩.৭৬ ভাগ। সুনামগঞ্জ জেলায় আক্রান্ত ছিলেন ১৮২১ জন, সুস্থ হন ১৩৯৮ জন, সুস্থতার হার ছিলো শতকরা ৭৬.৭৭ ভাগ। হবিগঞ্জ জেলায় আক্রান্ত ছিলেন ১৩৯৭ জন, সুস্থ হন ৯২০ জন, সুস্থতার হার ছিলো শতকরা ৬৫.৮৫ জন। মৌলভীবাজার জেলায় আক্রান্ত ছিলেন ১২৬৯ জন, সুস্থ হন ৭৯২ জন, সুস্থতার হার ছিলো শতকরা ৬২.৪১ ভাগ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর চার জেলায় মোট আক্রান্তের মধ্যে সিলেট জেলায় আক্রান্ত ছিলেন ৬,৫৩৬ জন এবং সুস্থ ৪,৯৮৩ জন, সুস্থতার হার শতকরা ৭৯ দশমিক ২৩ ভাগ। সুনামগঞ্জে আক্রান্ত ২,২৭৮, সুস্থ ১,৯৬৪ জন, সুস্থতার হার শতকরা ৮৬ দশমিক ২১ ভাগ। হবিগঞ্জে আক্রান্ত ১,৯৯৭, সুস্থ ১,২৪৭ জন সুস্থতার হার শতকরা ৭৩ দশমিক ৪৮ ভাগ ও মৌলভীবাজার জেলায় আক্রান্ত ১,৬৫৫ জন, সুস্থ হয়েছেন ১,৪৪৩ জন রোগী। এ জেলায় সুস্থতার হার শতকরা ৮৭ দশমিক ১৯ ভাগ।
এদিকে, আগামী মাসের শেষে ও নভেম্বরে দ্বিতীয় দফায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা করছে সরকারও। তাই বিদ্যমান অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
চা বাগান, পাহাড় আর টিলাবেষ্টিত সিলেট অঞ্চলে শীতের তীব্রতা স্বাভাবিকভাবেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তুলনায় বেশি থাকে। সিলেটে শীত আসে আগে এবং যায় পরে। তাই শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হবে জেনে সিলেটের মানুষের মধ্যে করোনা আতঙ্ক আরও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাস্ক ভ্যাকসিনের চেয়ে বেশি কার্যকর। দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করে না। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে। মসজিদে মাস্ক পরে নামাজে যেতে হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান জানান, শুধু সিলেট না সারা দেশেই করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমেছে। তাই শনাক্তের সংখ্যাও কমে আসছে। পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীরা সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে মানুষ যেভাবে মাস্ক পড়া বাদ দিয়ে দিচ্ছেন সেটা চিন্তার বিষয়। কারণ শীতে আবার করোনাভাইরাস বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাস্ক না পড়লে ৯৫ শতাংশ ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। তিনি বলেন, শীতে বেশী সংক্রমণের আশংকা রয়েছে। শীতের সময় মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম থাকে। তবে শীতের আগ থেকে যদি আমরা সচেতন হয়ে যাই তাহলে করোনা আমাদের কাবু করতে পারবে না।’
সিলেটে প্রথমে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ১শ’ শয্যার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসা চলে। কিন্তু পরে রোগী বাড়ার কারণে বেসরকারি দুটি-হাসপাতাল নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসায় এগিয়ে আসে।
এছাড়া, খাদিম ৩১ শয্যার সরকারি হাসপাতাল ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালকে আইসোলেশন সেন্টার হিসাবে কাজে লাগানো হয়। ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয় সিলেটে ওসমানী মেডিকেল কলেজে স্থাপিত ল্যাবে করোনা ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা। এ ছাড়া, ১৯ মে থেকে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ল্যাবে করোনা পরীক্ষা শুরু হয়।
হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে বর্তমানে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কম। তবে শীতে যদি প্রকোপ বাড়ে এই শংকায় তারা চিকিৎসা কার্যক্রম একেবারে বন্ধ করে দিচ্ছে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সুলতানা রাজিয়া স্বাক্ষরিত কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের দৈনিক প্রতিবেদনে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গতকাল চার জেলায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলার ১৪ জন, ও মৌলভীবাজার জেলার ১ জন। এ ২৪ ঘন্টায় চার জেলায় সুস্থ হয়েছেন ৪১জন। তাদের মধ্যে সিলেট জেলার ২৮ জন ও সুনামগঞ্জে ১৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাস আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।

শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ