শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির এমসি কলেজের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

প্রকাশিত: ২:১৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির এমসি কলেজের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

এমসি কলেজের ঘটনায় কারো গাফিলতি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে

সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে দল বেধে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসে। এসময় তদন্ত দলের প্রধান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, এমসি কলেজের ঘটনায় সরকার খুবই কঠোর অবস্থানে আছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ ঘটনার বিচার সম্পন্ন হবে। তিনি জানান, মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত দলকে ৩ দিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন এবং ৭ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় কলেজ সংশ্লিষ্ট কারো কোন গাফিলতি ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্ত দলের অপর দুই সদস্যের মধ্যে রয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট আঞ্চলিক পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর মো. নুরে আলম ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক লোকমান হোসেন।
এর আগে তদন্ত দল বিকেল ৪টার দিকে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে আসেন। প্রথমে তারা অধ্যক্ষের কক্ষে যান। সেখানে অধ্যক্ষসহ কলেজের সিনিয়র শিক্ষকদের সাথে কথা বলেন। প্রায় ১ ঘণ্টা পরে তদন্ত দল বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান। তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করে ঘটনার বর্ণনা শোনেন। তদন্ত দলের প্রধান প্রফেসর শাহেদুল খবির চৌধুরী ছাত্রাবাসের নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও ছাত্রাবাস এলাকার মধ্যে বসবাসকারী কলেজের কর্মচারীদের সাথে কথা বলেন। পরে তিনি হোস্টেল সুপারের বাসাসহ ছাত্রাবাসের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রথমেই তিনি ভিকটিমসহ তাদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, সেই নারীর জীবনে যে ট্রমা ঘটে গেলো তা সারা জীবনেও যাবে না। তাকে এবং তার পরিবারকে সেই ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে। এঘটনায় সকলের মতো তিনিও দুঃখিত ও ব্যথিত। তদন্ত দল কলেজের সামগ্রিক নিরাপত্তা, হোস্টেলের অবস্থা, কলেজ কর্তৃপক্ষের অবস্থান, দায়িত্ব পালনে কারো কোন দুর্বলতা ছিল কিনা সেসব বিষয়ে মূলত তদন্ত করবে। ঘটনা সংশ্লিষ্ট বিষয়সহ কলেজের সামগ্রিক দিক তাদের তদন্তে থাকবে বলে জানান তিনি।
তদন্ত দলের সাথে কেউ দেখা করতে এসেছিলেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা এখনো পর্যন্ত কারো সাথে কথা বলেননি। এইমাত্র শুরু করেছেন তদন্ত। তবে তারা সবার সাথে কথা বলবেন। তিনি বলেন, ভিকটিমের সাথে সরাসরি কথা বলার চেষ্টা করবেন। ভিকটিমকে অনুরোধ করবেন তাদের সাথে যেন কথা বলেন।
করোনাকালে সব বন্ধ থাকা অবস্থায় হোস্টেলে কিভাবে ছাত্ররা অবস্থান করেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়গুলো তারা খতিয়ে দেখবেন। তদন্তের স্বার্থে ২/৩ দিন বা যতদিন প্রয়োজন তারা সিলেটে অবস্থান করবেন।
তিনি বলেন, এমসি কলেজ শুধু সিলেট নয়, দেশের একটি শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানের হোস্টেলে এ ধরনের জঘন্য ঘটনায় সকলের মতো তারাও মর্মাহত। তারা অনেকটা জেনেছেন, আরো বক্তব্য নিবেন। যাচাই বাছাই করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক প্রতাপ চৌধুরী জানান, এম সি কলেজের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও সদস্যসচিব গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিমানযোগে সিলেটে আসেন। এরপর বিকালে তিনি এম সি কলেজ ক্যাম্পাসে যান। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর তদন্ত কমিটির সদস্যরা এমসি কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা বুধবারও সিলেটে অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।
এমসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সালেহ আহমদ জানান, কলেজের উদ্যোগে গঠিত তদন্ত কমিটিও গতকাল মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু করেছে। তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। এমসি কলেজের গণিত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এ কমিটির প্রধান।
এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বেড়াতে আসা দম্পতির স্বামীকে আটকে রেখে গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কলেজ ছাত্রাবাসে নববধূকে ধর্ষণ করে কয়েকজন যুবক। এ ঘটনায় ৬ ছাত্রলীগ কর্মীর নামোল্লেখসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই গৃহবধূর স্বামী। পুলিশ এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে ৬ জন মামলার এজাহারনামীয় আসামী। দ্ইুজনকে সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ এ পর্যন্ত ৬ জনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

শেয়ার করুন