এমসি কলেজে ধর্ষণ : বিচারিক তদন্তে কমিটি করে দিল হাই কোর্ট

প্রকাশিত: ৩:১৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

এমসি কলেজে ধর্ষণ : বিচারিক তদন্তে কমিটি করে দিল হাই কোর্ট

স্বামীর সঙ্গে সিলেটের এমসি কলেজে বেড়াতে যাওয়া এক নববধূকে ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি করে দিয়েছে হাই কোর্ট। সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, মুখ্য মহানগর হাকিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (সাধারণ) সমন্বয়ে গঠিত এ তদন্ত কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রাতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ওই ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন নজরে আনার পর বিচাপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেয়।
ঘটনার শিকার নববধূ, মামলার বাদী, এমসি কলেজের অধ্যক্ষ, হোস্টেল সুপার, ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী (যদি খুঁজে পাওয়া যায়) এবং কমিটি যাদের প্রয়োজন মনে করবে, তাদের জবানবন্দি নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত।
কোনো রকম ব্যর্থতা ছাড়া আদালতের আদেশের অনুলিপি বুধবারের মধ্যে তদন্ত কমিটির সদস্যদের কাছে পৌঁছাতে সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সিলেটের পুলিশ কমিশনারকে এই অনুসন্ধান কমিটির যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। তদন্তকাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরঞ্জাম সরবরাহ করতে সিলেটের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে ‘গণধর্ষণ থেকে রক্ষায় অবহেলা’ এবং কলেজ ক্যাম্পাসে ‘অছাত্রদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে’ কলেজ অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারের ‘নীরবতায়’ তাদের বিরুদ্ধে যথযথ আইগত ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
শিক্ষা সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, এমসি কলেজের অধ্যক্ষ, সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, এমসি কলেজের হোস্টেল সুপারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন এমসি কলেজের ওই ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন আদালতের নজরে এনে প্রয়োজনীয় আদেশের আরজি জানান।
পরে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “এমসি কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল কলেজ ক্যাম্পাস ও হোস্টেল নিরাপদ রাখা। তারা সেটি না করে মহামারীর মধ্যেও কলেজ ক্যম্পাস ও হোস্টেল খোলা রেখেছে। তাদের ব্যর্থতার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে।
“যে কারেণে আদালত আদেশে বলেছে, সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে এ ধরনের ঘটনায় সর্বোচ্চ আদালত নির্লিপ্ত থাকতে পারে না।”
গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন এক নারী। ছাত্রলীগের নয়জন কর্মী ওই নারীকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শেয়ার করুন