দোয়ারা বাজারে এক যুবকের পিতৃত্বের স্বীকৃতি নিয়ে ধুম্রজাল: ডিএনএ টেস্টের দাবি

প্রকাশিত: ২:৪৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২০

দোয়ারা বাজারে এক যুবকের পিতৃত্বের স্বীকৃতি নিয়ে ধুম্রজাল: ডিএনএ টেস্টের দাবি
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি :: দোয়ারাবাজারে এক যুবকের পিতৃত্বের স্বীকৃতি নিয়ে নানান ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজধানী ঢাকায় কর্মরত আব্দুল জলিল (২১) নামের এক যুবক একই ইউনিয়নের এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাকে তার জন্মদাতা পিতা হিসেবে দাবি করছেন। ওই যুবক তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে পিতৃত্বের স্বীকৃতি চেয়ে তার দাবিকৃত পিতার পরিচয় ও ছবিসহ একের পর এক স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ এলাকা ও এলাকার বাইরে চলছে নানান গুঞ্জন।
আব্দুল জলিলের দাবিকৃত পিতার নাম আলহাজ্ব খলিলুর রহমান। তিনি লক্ষীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বাংলাবাজারের খলিল মার্কেটের প্রতিষ্ঠাতা স্বত্বাধিকারী ও একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ব্যবসার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় রয়েছেন তিনি। পিতা দাবি করে জলিলের ফেসবুকে একের পর এক স্ট্যাটাস দেওয়ায় রীতিমতো বিব্রত খলিলুর রহমান।
এ বিষয়ে জানতে সরেজমিনে গেলে পশ্চিম বাংলাবাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর সাথে আলাপ হয় প্রতিবেদকের। ব্যবসায়ীরা জানান, স্বামী-পরিবারহীন এক মহিলা দীর্ঘদিন ধরে বাজারের গলিতে সন্তানসহ বসবাস করে আসছে। তাকে নিয়ে নানান আপত্তিকর ঘটনার অভিযোগ থাকায় কিছুদিন আগে পশ্চিম বাংলাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোর্শেদ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মিলে ওই মহিলাকে বাজার থেকে বিতাড়িত করেন। এরপর থেকেই ওই বিতাড়িত মহিলার সন্তান আব্দুল জলিল বাংলাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোর্শেদের বড়ভাই খলিলুর রহমানকে পিতা দাবি করে পিতৃত্বের স্বীকৃতি চেয়ে একের পর এক ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে আসছে।
তবে সরিজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়েও ওই মহিলার কোনো সন্ধান মেলেনি। প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে খলিলুর রহমান জানিয়েছেন আব্দুল জলিল নামে কাউকেই চেনেন না তিনি। তিনি জানান, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা জলিল নামের এই ছেলে দিয়ে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে নানানভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ওই বিতর্কিত মহিলার নিজেরও কোনো পিতৃ পরিচয় নেই, তার সন্তানদের কারোরই পিতৃ পরিচয় নেই। এর অনেক বছর আগে মাঠগাঁও গ্রামের খালিক সরকার নামে এক স্থানীয় রাজনৈতিককেও ফাসিয়েছেন ওই মহিলা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। জলিলের অপপ্রচারে সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।
মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে আব্দুল জলিল প্রতিবেদককে জানান, খলিলুর রহমানই আমার পিতা। বিশ্বাস না হলে ডিএনএ টেস্ট করানো হোক। দীর্ঘদিন যাবৎ আমি পিতৃত্বের স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছি। পিতৃত্বের স্বীকৃতি না পেলে শিঘ্রই আইনের দারস্থ হবো।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ